আইপিও রুলসের সংশোধন, আবেদন বাতিলের শঙ্কায় নয় কোম্পানি

শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করা নয় কোম্পানি আবেদন বাতিলের শঙ্কায় পড়েছে। আইপিও রুলসের তিনটি ধারা এবং একটি ধারার তিনটি উপধারা সংশোধন করে নির্দেশনা আসায় এ শঙ্কা তৈরী হয়েছে। নয়টি কোম্পানির দুটি বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে এবং বাকি সাতটি ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলনের আবেদন করেছিল।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি আইপিও রুলসের উভয় পদ্ধতিতে আবেদনের ক্ষেত্রে একটি ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়াও বুক-বিল্ডিং পদ্ধতির এবং ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি করে ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধনীটি পূর্ণাঙ্গভাবে দুই দিনের মধ্যেই প্রকাশিত হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। সংশোধনীর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ারে লক-ইনের প্রভাবে ইতিমধ্যে আবেদন করা কোম্পানিগুলোকে শঙ্কায় পড়তে না হলেও বাকি সংশোধনীতে সংকটে পড়েছে উভয় পদ্ধতির আবেদনকারীরা। এদিকে কোম্পানিগুলোর ইস্যু ম্যানেজাররাও রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। ঠিক কোন কোন আবেদন বিবেচনা অযোগ্য বিবেচিত হবে সে ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা না দেওয়ায় তৈরী হচ্ছে এ শঙ্কা। এদিকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ২০১৫ সালের পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী, মূলধন উত্তোলনের কোনো পরিমান নির্ধারিত ছিল না। সেখানে এবারের সংশোধনীতে অনুযায়ী ন্যূণতম ৩০ কোটি টাকার কম মূল্যের শেয়ার অফলোডের কোনো সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদন করা ইফকো গার্মেটস অ্যান্ড টেক্সটাইল ২০ কোটি টাকা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন ২০ কোটি টাকা, বিবিএস কেবলস ২০ কোটি টাকা, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ২০ কোটি টাকা, ওইমেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১৫ কোটি টাকা, অ্যামিউলেট ফার্মাসিউটিক্যালস ১৫ কোটি টাকা, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ১৫ কোটি টাকা করে মূলধন উত্তোলনের আবেদন করে রেখেছে। এ সাতটি কোম্পানির আবেদন ৩০ কোটি টাকার কম হওয়ায় নতুন করে আবেদন করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকছে না। তবে কবে নাগাদ পুনরায় আবেদন করতে হবে সে ব্যাপারে আসেনি। অন্যদিকে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদন করা কোম্পানিগুলোর জন্য আবেদিত মূলধনের পরিমান ন্যূণতম ৫০ কোটি টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আবেদন করা এসটিএস হোল্ডিং (অ্যাপোলো হসপিটাল) ৩০ কোটি টাকা এবং ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৪০ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছে। এর মধ্যে ইনডেক্স এগ্রো প্রাথমিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোড-শো সম্পন্ন করেছে। তবে নতুন করে আবেদন করলে পুনরায় পুরো আইপিও প্রক্রিয়া প্রথম থেকে সম্পন্ন করার বাধ্য-বাধকতা রয়েছে। এমনকি ন্যূণতম মূলধনের আবেদন থাকলেও ৫০ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ শেয়ার দরে বিডিং এবং সে ভিত্তিতেই বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশনায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনের সমপরিমান বরাদ্দ দেওয়ার বিবেচনায়ও সংকটে পড়তে পারে কোম্পানিগুলোর পূর্ববর্তি আবেদন।

বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও’র পাইপলাইনে থাকা বাকি কোম্পানিগুলো হচ্ছে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক (৫৫ কোটি টাকা), ডেল্টা হসপিটাল (৫০ কোটি টাকা), বসুন্ধরা পেপার মিলস (২০০ কোটি টাকা), পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস (৭০ কোটি টাকা), রানার অটোমোবাইলস (১০০ কোটি টাকা), আমান কটন ফেব্রিক্স (৮০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে আমান কটন ফেব্রিক্স ছাড়া সবকটি কোম্পানিই রোড-শো সম্পন্ন করেছে। এর বাইরে আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড ৫৬ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য শেয়ারদর (কাট-অব-প্রাইস) ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেকোন সময় কোম্পানির চাঁদা গ্রহনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হতে পারে। এছাড়াও আইপিও তালিকায় ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ৬০ কোটি টাকা উত্তোলনে এগিয়ে থাকলেও ফের পিছিয়ে পড়েছে। কোম্পানির মালিকানা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে অভিযোগ প্রদানের পরে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে পাবলিক ইস্যু রুলস ২০০১ সংশোদন করা হয়। সংশোধনের ঘোষণার আগে ফিক্সড প্রাইস মেথডে প্রিমিয়াম ছাড়া আইপিও অনুমোদন পাওয়া এনার্জিপ্যাক সে সময় আইনি জটিলতায় পড়ে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি পেতে ব্যর্থ হয়। অনুমোদন পাওয়া আমরা নেটওয়ার্কস এবং আবেদন করা বাকি কোম্পানিগুলোও এখন এ শঙ্কায় রয়েছে।