আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় জনগণ নির্যাতিত হচ্ছে

ডিনিউজ, ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেছেন, পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছে এবং সেই গুলিতে সন্ত্রাসীর বা আসামির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু এর পরও তো আসামির যে আইনি অধিকার পাওয়ার কথা ছিল সেটা হলো না।

এ ছাড়া এভাবে যাকে ইচ্ছে ধরে নিয়ে অস্ত্র সংগ্রহের সময় পুলিশ আক্রান্ত হয়ে গুলি ছুড়েছে আর সন্ত্রাসীরা নিহত হয়েছে। আর প্রায় সব মৃত্যুই একই ধরনের। এসব বলে মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।

সাধারণ মানুষ হয়তো বলতে পারে না বা বলে না। তাই বলে তাদের সরকারের বোকা বানানোর কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে মনে রাখতে হবে তারা জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এমন কোনো আইন করা বা আইন প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

যদি কোনো বিচার ছাড়াই একজনকে ইচ্ছেমতো এনে অস্ত্র সংগ্রহের নামে গুলি করে মেরে আর এ বিষয়ে রাষ্ট্র নীরব থাকে, তবে বুঝতে হবে আইনের শাসন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘ওয়েসিস হোটেল এই সময়’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদিন বলেন, এভাবে আসলে চলতে পারে না। সন্ত্রাসী হোক বা সন্ত্রাসী মামলার আসামি হোক সবারই আইনের অধিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যদি এমন হয়, তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। সরকারকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন ৫৭ ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশের সুধীসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইতিমধ্যে এ ধারায় অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অবিলম্বে ধারাটি সংশোধন করে অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে হবে।

শাহদীন মালিক বলেন, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে তার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিধি প্রণয়ন করা হয়নি। অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট। যে কারণে এই আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, সারা দেশে প্রচুর মামলা হচ্ছে। সেসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। আইনটাকে অবমূল্যায়িত করে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যে উদ্দেশ্যে আইনটি তৈরি হয়েছিল সে উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এর অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ। মানুষ এ আইনের দ্বারা নির্যাতিত।

প্রতিটি মানুষ ভয়ের মধ্যে আছে। আইসিটি আইনটি করার আগে সবার মতামত নেওয়ার কথা ছিল। সব কিছু বুঝেশুনে আইন প্রণয়ন করতে হয়; কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আইন করা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।

আমাদের সংবিধান যেসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে এর মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অন্যতম। সংবাদপত্রের অধিকারসহ অনেকগুলো ব্যাপারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা চরম হুমকি হিসেবে কাজ করছে। আশা করি, সরকার আইন সংশোধন করবে।

শাহদীন মালিক তথ্য তুলে ধরে আরো বলেন, ২০১০ সালের ২৬ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৪৬ ও ৫৭ ধারা ও ফেসবুক বন্ধের (তখন বন্ধ ছিল) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৪৬ ও ৫৭ ধারা কেন অবৈধনয়, তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেন।

চার সপ্তাহের মধ্যে বিটিআরসি, আইনসচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, তথ্য ও যোগাযোগসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই রুল নিষ্পত্তি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *