গ্র্যাচুইটির টাকায় সঞ্চয়পত্র নয়!

bangladeshbank
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকম: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, গ্র্যাচুইটি তহবিলের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবেনা। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য ২০১৪ সালের ডিসেম্বরেও ব্যাংকের এমডিদের একই চিঠি দিয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, গ্র্যাচুইটি তহবিলের অর্থে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই, আগেও ছিল না। সঞ্চয়পত্র বিধিমালা, ১৯৭৭ (সংশোধিত-২০০২) এর বিধি ৫ এর উপ-বিধি (৫) অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি তহবিলের অর্থে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ নেই।

সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা প্রযোজ্য বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এমডিদের পাশাপাশি একই চিঠি দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০টি শাখাকে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।কমপক্ষে পাঁচ বা সাত বছর চাকরি পার হওয়ার পর বেসরকারি ব্যাংক ও করপোরেট কোম্পানিগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি সুবিধা দিয়ে থাকে।

চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া বা অবসরে যাওয়ার পর সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এককালীন যে অর্থ দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে গ্র্যাচুইটি। আর এ সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যাংক ও করপোরেট কোম্পানির একটি তহবিল থাকে, যা গ্র্যাচুইটি তহবিল নামে পরিচিত। সেই তহবিলের অর্থ দিয়ে বহু বছর ধরে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিনে আসছে ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিদ্যমান ১৯৭৭ সালের সঞ্চয়পত্র বিধি অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্য তহবিলের অর্থ পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। কিন্তু গ্র্যাচুইটি তহবিলের অর্থ এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায় না। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা রয়েছে, ১৯৮৪ সালের আয়কর বিধির ৫৮ ডি ধারা অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি তহবিলের অর্থে পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে।

গ্র্যাচুইটি তহবিলের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে, নাকি যাবে নাএ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাচুইটির অর্থে সঞ্চয়পত্র ক্রয় বন্ধের উদ্যোগ নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংককে এক চিঠি দিয়ে আইআরডি তখন জানায়, এ সুবিধা আর দেওয়া যাবে না, বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে ব্যাংকগুলোকে তা বলে দেয়।এর ভিত্তিতে একই বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকের এমডিদের উদ্দেশে চিঠি দিয়ে মুনাফা ছাড়াই সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে অনেকেই তা ভাঙায়নি বলে জানা গেছে।