জাপানি নাগরিকদের ময়লা পরিস্কার অস্বস্তিকর নয়

গত কয়েকদিন ধরে কিছু বিদেশি নাগরিককে ঢাকার কিছু অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে বনানী ও গুলশান এলাকায় রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। সে সময় স্থানীয় মানুষদের কেউ কেউ তাদের সাথে যোগ দিচ্ছেন। ফেসবুক সহ অনলাইনে সামাজিক গণমাধ্যমগুলোত এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা এবং বিতর্ক চলছে।

বিরল এ ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। বিবিসি বাংলার সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, আমি সোস্যাল মিডিয়াতে ঘটনাটা দেখেছি। এই উদ্যেগটা নি:সন্দেহে প্রসংশার দাবি রাখে।  যে যেখানে ভাল কাজ করে তার প্রশংসা করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্জ্য আমাদের বহু দিনের একটি বড় সমস্যা। ঢাকা শহরের এই অংশে এখন প্রায় ৬০ লাখ লোক বাস করে। কিন্তু বর্জ্য সমস্যা সমাধানের জন্য বড় ধরনের কোন বিজ্ঞান সম্মত উদ্যেগ নিতে পারিনি। যার ফলে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা নিজেরা যেভাবে পরিকল্পনা করছি তাতে এ বছরের মধ্যে রাস্তায় যেখানে বেশি বর্জ্য থাকে সেগুলো অপসারণ করতে পারব।

এ ঘটনায়  সোস্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।  সে সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন, আমি মেয়র হিসাবে এ ব্যাপারে কোন ধরনের বিরুপ মন্তব্য করতে চাই না। যিনি কাজ করছেন তিনি একটু হলেও ভালর জন্য কাজ করছেন। এটি কত দীর্ঘস্থায়ী হবে বা কত ব্যাপক হারে হবে তা জানি না কিন্তু উদ্যেগটা ভাল। আমরা সবাই যদি সচেতন হই, এদেরকে  দেখে যদি আমাদের সচেতনতা আসে তাহলে একটা বড় কাজ হবে।

বিদেশিরা আমাদের দেশে ময়লা পরিষ্কার করছে এটা কতটা অস্বস্তিকর এমন কথার জবাবে আনিসুল হক বলেন, আমার কাছে কোন অস্বস্তিকর বিষয় না এটি। আমরা যদি নিজেরা সচেতন না হই তবে ১০ জন মেয়র মিলেও এ কাজ করতে পারবে না। আগামী মাস থেকে মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে মিটিং এর আয়োজন করব।

নির্বাচনের আগে ক্লিন ঢাকা নামে একটা প্রতিশ্রুতি ছিল, এই কয়েক মাসে এ ব্যাপারে কতদূর এগিয়েছেন সে সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন, ঢাকা শহরের যখন প্লান করা হয়েছিল তখন এত বেশি লোকের কথা চিন্তা করে প্লান করা হয় নাই। বর্তমান এত বেশি বর্জ্য বেড়ে গেছে যেগুলো রাখার সঠিক কোন জায়গা নেই। প্রতি দিন আড়াই থেকে ৩ হাজার টন বর্জ্য রাস্তায়  বা রাস্তার উপরে কন্টেইনারে ফেলা হচ্ছে যেগুলোর কোন ট্রান্সফার স্টেশন নেই। ৩৬টি ওয়ার্ডে দুটি করে ৩ থেকে ৪ হাজার বর্গফুটের  ট্রান্সফার স্টেশন করব। এ বছরের মধ্যে এটা করা সম্ভব  হবে। যখন ট্রান্সফার স্টেশনের কাজ শেষ হবে তখন আর রাস্তার বর্জ্য দেখা যাবে না। যত দিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সচেতন না হবে তত দিন পর্যন্ত ময়লা পরিষ্কার করা কঠিন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *