তিতাসের বিতরণ চার্জ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই: মূল্যায়ন কমিটি

titas-gas
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকম: তিতাসের বিতরণ চার্জ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এদিকে,আবাসিক খাতে ফের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মীর মসিউর রহমান।

সোমবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে তিতাসের পক্ষ থেকে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়। পরবর্তীতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এক প্রতিবেদনে বিতরণ চার্জ না বাড়ানোর তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব চাহিদা মেটাতে তিতাস গ্যাসের বিতরণ চার্জ পড়বে ঘনমিটার প্রতি দশমিক ০২১৮ টাকা। এখন কোম্পানির বিতরণ চার্জ রয়েছে ঘনমিটার প্রতি দশমিক ২৩১৫ টাকা। জিটিসিএলের ট্যান্সমিশন চার্জ ঘনমিটার প্রতি দশমিক ২৯৫৬ টাকা বিবেচনায় তিতাস গ্যাসের কস্ট প্লাস ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব চাহিদা ৭১৭ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সময়ে মোট চলতি পরিচালন রাজস্ব নিরূপণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে চলতি পরিচালন রাজস্ব বেশি থাকে ৩৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাই নিরূপিত রাজস্ব চাহিদা অনুযায়ী তিতাস গ্যাসের বর্তমান বিতরণ চার্জ বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। কারণ বর্তমান মূল্য হারে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত রাজস্ব থাকবে ৩৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কস্ট-প্লাস ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য তিতাস গ্যাসের রাজস্ব চাহিদা ঘনমিটারপ্রতি দশমিক ৪১৮৫ টাকা। এর বিপরীতে তিতাস গ্যাসের বিদ্যমান আয় ঘনমিটারপ্রতি দশমিক ৬২৮৩ টাকা। এর মধ্যে ঘনমিটারপ্রতি দশমিক ২৩১৫ টাকা অর্জিত হবে বিতরণ চার্জ হতে। বাকি দশমিক ৩৯৬৮ টাকা অর্জিত হবে অন্যান্য আয় (পরিচালন আয়, বিবিধ আয়, সুদ আয়, গ্যাস বিতরণ চার্জ হতে)।

তবে এই প্রতিবেদনের বিপরীতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা লিখিতভাবে এই প্রতিবেদনের জবাব দেবো।

এর আগে ব্যবহৃত গ্যাসে সিঙ্গেল বার্নারের (এক চুলা) মাসিক ১১০০ টাকা ও দুই চুলা ১২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন তিতাসের এমডি। বর্তমানে এক চুলা ৬০০ টাকা ও দুই চুলা ৬৫০ টাকা বিল নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া গণশুনানিতে বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৬৩ শতাংশ, সারে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ, ক্যাপটিভে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ১৩০ শতাংশ, শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ, বাণিজ্যিকে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৭২ শতাংশ, সিএনজিতে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৮৩ শতাংশ এবং বাসাবাড়িতে মিটারে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ১৪০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস।

এদিকে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৭ আগস্ট গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সে সময় এতে এক চুলা ব্যবহারকারীদের ৬০০ টাকা এবং দুই চুলা ব্যবহারকারীদের ৬৫০ টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়। এর আগে এক চুলা ব্যবহারকারীদের ৪০০ টাকা এবং দুই চুলা ব্যবহারকারীদের ৪৫০ টাকা পরিশোধ করতে হতো।