বার কাউন্সিল নির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : আইনজীবীদের সনদসহ পেশাগত বিষয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন আগামীকাল ২৬ আগস্ট বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী বার কাউন্সিল নির্বাচনে মোট ৪৩ হাজার ৩০২ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রত্যেক ভোটারকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিজ আইনজীবী সমিতির আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। অন্যথায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে না বলে জানায় বার কাউন্সিল সূত্র।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বার কাউন্সিল সচিব মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সারা দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যাবতীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। কাল ২৬ আগস্ট উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আইনজীবীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র, দেশের জেলা সদরের সকল দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোট কেন্দ্র এবং বাজিতপুরসহ দেশের ১২ উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি আদালত অঙ্গনের ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৭৭টি কেন্দ্রে এ ভোটগ্রহণ করা হবে। দেওয়ানি আদালতের বিচারকরা ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এখন একেবারেই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। কারণ রাত পোহালেই ভোট। প্রতিটি জেলা বারে সফর, সভা-সমাবেশ, আইনজীবীদের চেম্বার ও লাইব্রেরিতে যেয়ে ভোট প্রার্থনা, ফোন, এসএমএস, ফেসবুক প্রচারণা, প্রতিশ্রুতি সম্বলিত লিফলেটসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রার্থী ও প্যানেলের পক্ষে ভোটের প্রচারণা চলেছে ক্রমাগতভাবে।
গত ১৩ আগস্ট আইনজীবীদের সনদসহ পেশাগত বিষয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের দিন ধার্য ছিল। সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নির্বাচন পেছানোর জন্য আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ২৬ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্টানে দিন ধার্য করে আদেশ দেয় । গত ২৫ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল, যাতে ভোটের দিন রাখা হয়েছিল ২০ মে। এরপর ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয় ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। ওই তালিকায় ‘অস্পষ্টতা ও একই নাম একাধিকবার’ থাকার কথা জানিয়ে বার কাউন্সিলের পাঁচজন নির্বাচিত সদস্য এবং ১০১ জন আইনজীবী আলাদাভাবে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন। চিঠিতে তারা তালিকা ঠিক করতে বলেন। এরপর ১২ মে এক জরুরি সভা করে বার কাউন্সিলের এক ‘জরুরি সভায়’ নেয়া সিদ্ধান্তে নির্বাচন পিছিয়ে ২৭ মে তারিখ ঠিক করা হয়। ভোটার তালিকায় থাকা কিছু ত্রুটি সংশোধন করার জন্য সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে পৃথক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিলের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে গত ২১ মে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে পরে ভোটার তালিকা সংশোধন সাপেক্ষে বার কাউন্সিল নির্বাচনের তারিখ ঠিক করে দিয়ে আদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪টি সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য চূড়ান্তভাবে ৬১ জন প্রার্থী রয়েছেন। ১৪ জন সদস্যের মধ্যে সারা দেশে সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে ৭ জন এবং দেশের ৭টি অঞ্চলের লোকাল আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে ৭ জন নির্বাচিত হবেন। সাধারণ আসনে ৭ জন সদস্যের বিপরীতে ৩২ জন প্রার্থী এবং ৭টি অঞ্চলের লোকাল আইনজীবী সমিতির ৭টি সদস্য পদে মোট ২৯ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
৭টি অঞ্চল হলো- গ্রুপ-এ-সাবেক বৃহত্তর ঢাকা জেলার সকল আইনজীবী সমিতি এখানে ৪ জন প্রার্থী গ্রুপ-বি-বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি এখানে ৩ জন প্রার্থী গ্রুপ-সি- বৃহত্তর চট্রগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি-এখানে ৩জন প্রার্থী গ্রুপ-ডি- বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি- এখানে ৫ জন প্রার্থী গ্রুপ-এফ- বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি-এখানে ৩ জন প্রার্থী গ্রুপ-এইচ- বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি-এখানে ৪ জন প্রার্থী এবং গ্রুপ-জি বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি-এখানে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রতি তিন বছর অন্তর বার কাউন্সিল নির্বাচন হয়। বার কাউন্সিল ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। আর বাকি ১৪ জন আইনজীবীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ১৪ জনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে থাকেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সমমনা আইনজীবী সংগঠন সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং বিএনপি ও তাদের সমমনা আইনজীবীদের সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের গোলাপী প্যানেলসহ মোট ৪টি প্যানেল প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়াও কিছু একক প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাধারণ আসনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র গুহ (পি.সি গুহ), অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ.ম রেজাউল করিম।
সাধারণ আসনে ৭টি সদস্য পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সুপ্রিমকোর্ট বারের বর্তমান সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জামিল মোহাম্মদ আলী (এ.জে মোহাম্মদ আলী), সুপ্রিমকোর্ট বারের বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন (খোকন), ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বোরহানউদ্দিন ও অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া।
গোলাপী প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন-অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, শাহ মো. খসরুজ্জামান,একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক,আব্দুল মোমেন চৌধুরী, সারওয়ার-ই-দীন, মো. হেলাল উদ্দিন ও মো.শামসুল হক। -বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *