বিদেশি ক্রেতা চলে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

tofayel
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকম: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ১ জুলাই হলি আর্টিজানের ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন—এমন কথা ঠিক নয়। এ ঘটনার পর বরং দেশে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বলা হচ্ছে, গুলশানে ক্রেতা নেই, হাহাকার চলছে। আসলে ঈদের পর অনেক ব্যবসায়ী ১০ থেকে ১৫ দিন দোকানপাট বন্ধই রাখেন। তারা গ্রামের বাড়ি যান। এ ছাড়া জুলাই-আগস্ট মাস বিদেশে অবকাশযাপনের সময়। এ সময়ে বিদেশিরা কমই আসেন। তাই বিদেশি ক্রেতা কম হতে পারে। সবাই চলে যাচ্ছেন বলে যে বক্তব্য দিয়ে লেখালেখি চলছে, তা ঠিক নয় বলে জানান তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর সবাই দলমত-নির্বিশেষে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছেন। সবাই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এক লাখ আলেম বিবৃতি দিয়েছেন।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘হলি আর্টিজানের মতো সন্ত্রাসী হামলার মুখোমুখি আমরা আগে কখনো হইনি। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে দেখল, কী শক্ত হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।’ এ সময় মাতলুব আহমাদ সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নাসিম মঞ্জুর বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। ক্রেতারা দেখতে চান সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপটা কী। এ পর্যন্ত যত জঙ্গি নিহত হয়েছে, তাদের পরিবার লাশ নিতে আসেনি, এটাই আসল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর এত বড় ঐক্য আর দেখা যায়নি। বিদেশি ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন, হোটেলগুলো ফাঁকা—এগুলো সুযোগসন্ধানী কথা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যেকোনো বিপদে সব ভুলে এ জাতি দাঁড়াতে জানে।