বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নেবে সরকার

nasrulmp
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তিও করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার পুঁজিবাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহ করতে আগ্রহী।রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে অর্থায়ন’ শীর্ষক এক সভায় এ কথা বলেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মন্ত্রী সরকারি কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা তাদের কাছে আসবে এমন আশায় বসে না থেকে, ডিএসইর উচিত তাদের কাছে যাওয়া।
নসরুল হামিদ বলেন, সরকার দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়নের জন্য যত প্রকল্প হাতে নিচ্ছে; তা সব পুঁজিবাজারের অনুকূলে। সব ধরনের প্রকল্পের জন্য পুঁজিবাজার থেকে অর্থসংগ্রহ করতে চায় সরকার। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

আমরা ৩ বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছি। সামনে আরও চুক্তি হবে। তবে এখন বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো দরকার।
তিনি বলেন, সরকার সব সময়ই এই বাজারে জনই আছে। তবে নতুন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে ডিএসই এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, আমরা এমন একটা বাজার গড়ে তুলতে চাই, যেটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হবে। জিডিপির অনুপাতে বাজার মূলধন বিবেচনায় আমাদের বাজার এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। তারা এই অনুপাত বাড়িয়ে প্রতিবেশি ভারতের কাছাকাছি নিতে চান।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে নানা সংস্কার হয়েছে। বিএসইসির সক্ষমতা বেড়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফোরামে বিএসইসি এ ক্যাটারিতে স্থান করে নিয়েছে। এ কারণে অনেক বিদেশি এখন এই বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সারাদেশকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন বিশাল বিনিয়োগ। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করতে পারে।

ড. খায়রুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারে বিদ্যুত খাতের কোম্পানিগুলোর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। বাজারমূলধনে ১২ ভাগ এই খাতের কোম্পানিগুলোর দখলে। বাজারের ৮ থেকে ১০ ভাগ লেনদেনও হয় বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিরগুলোর শেয়ারের মাধ্যম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার চাইলে আগামী ৫ বছরে জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের জন্য পুঁজিবাজার থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার জোগান দেওয়া সম্ভব।

মূল প্রবন্ধে বিএসইসির সাবেক কমিশনার ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ খান বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে পুঁজিবাজার বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এই বাজার বড় হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি ফিরোজ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডিবিএ প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু, ডিএসই চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, সিএসই চেয়ারমান ড. আব্দুল মজিদ।

অনুষ্ঠানে ডিএসই ও সিএসইর পরিচালকসহ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।