বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে পারবে না স্টক এক্সচেঞ্জ

bseclogo
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ সরকারি মালিকানার বাইরে অন্য কোনো কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে পারবে না স্টক এক্সচেঞ্জ। এখন থেকে বেসরকারি কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিয়ন্ত্রণ করবে। গতকাল বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খায়রুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় কমিশন বলে, বিএসইসি শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তিতে (ডিরেক্ট লিস্টিং) উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সরকারি মালিকানার বাইরে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫ এর ৮ থেকে ১৩ নং বিধান প্রয়োগ করবে না।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ-১৯৬৯ এর সেকশন ২০ (এ) এর ক্ষমতাবলে বিএসইসি এ নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কোম্পানি ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে যে আইনি ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল, সরকারি কোম্পানি ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে তা তুলে নেয়া হয়েছে। এখন থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিএসইসির নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশন, ২০১৫ এর ৮ ধারায় বলা হয়েছে, লিস্টিং রেগুলেশনের ৮-১৩ নম্বর বিধান প্রয়োগ করে সময়ে সময়ে বিএসইসির ইচ্ছানুসারে যে কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির কি যোগ্যতা থাকতে হবে তা বলা হয়েছে ৯ নম্বর বিধানে। সেখানে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা হলে তাদের সরাসরি তালিকাভুক্ত করা যাবে।

তবে কোম্পানির কোনো পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা যাবে না, কোম্পানিগুলোকে বিগত ৫ বছরে ধারাবাহিক বাণিজ্যিক উত্পাদনে থাকতে হবে, বিগত তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ইতিবাচক ধারা থাকতে হবে, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হবে, চলতি সম্পদ ও পরিচালন মুনাফা ঋণাত্মক হতে পারবে না, করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন (সিজিজি) পরিপালন করতে হবে, কোম্পানির পরিচালকদের ঋণ খেলাপি হওয়া চলবে না ও কোম্পানির হিসাব বিবরণী আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে তৈরি করতে হবে।

লিস্টিং রেগুলেশনের ১০ নম্বর বিধানে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর আবেদন ফি বাবদ ৫০ হাজার টাকা জমা দেয়ার পাশাপাশি যাবতীয় সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

১১ নম্বর বিধানে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্তির কমপক্ষে সাতদিন আগে কোম্পানির প্রসপেক্টাস বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। ১২ নম্বর বিধানে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও ১৩ নম্বর বিধানে কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিতে এক বছরের লকইন ও বিক্রির আপডেট তথ্যাদি স্টক ব্রোকারদের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।