ব্যাটিংয়ের টুকিটাকি শিখছেন মুস্তাফিজ

স্টাফ রিপোর্টার : ড্রেসিংরুমের সামনে সৌম্য সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ শেষ করলেন। মাঠের বুক চিরে পা বাড়ালাম ইনডোরের দিকে। কিছু দূরে এগিয়ে পেছন ফিরতে চোখে পড়ল ‘কাটার’ বালককে।তবে এদিন তার হাতে বলের বদলে ব্যাট, প্যাড, চেস গার্ড, থাই গার্ড। যেন পুরদস্তুর ব্যাটসম্যান। ব্যাপারটা আগেই জানা ছিল। হাথুরুসিংহের নির্দেশে পাঁচ বোলারের ব্যাটে শান দিচ্ছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। ‘ব্যাটে হাত পাকানোটা কেমন লাগছে?’ ইনডোরের দিকে যেতে যেতে জানতে চাইলাম মুস্তাফিজের কাছে। মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘ছেলেবেলায় তো ব্যাটই করতাম। পরে বোলার হয়ে গেছি। মূল অনুশীলনে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার অতটা সময় থাকে না। অনেক সময় শেষ দিকে ব্যাটসম্যানদের কিছু দায়িত্ব সামলাতে হয়। চেষ্টা করছি ব্যাটিংয়ের টুকিটাকি শিখে নিতে।’
মুস্তাফিজকে অনুসরণ করে ইনডোরে ঢুঁ মারতেই দেখা গেল আরো চার বোলার সেখানে ব্যাটিং করছেন- তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ শহীদ, জোবায়ের হোসেন লিখন।
পাওয়া গেল জোবায়েরকে। কিছুক্ষণ আগে ব্যাটিং প্রাকটিস করে এসেছেন। ব্যাটসম্যান হলে লেগ স্পিন কিভাবে খেলতেন? প্রশ্ন শুনে জোবায়ের কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। নিজে লেগ স্পিনার। তাই এই প্রশ্নের উত্তর তার থেকে আর ভাল কে জানে। তবু তিনি শুধুমাত্র লেগ স্পিনারদের কথা বললেন না। সব বোলারের প্রসঙ্গ টেনে উত্তর দিলেন, ‘বোলাররা অনেক সময় লুস বল দেন। আমি নিয়মিত উপরের দিকে ব্যাট করলে ওই লুস বলগুলো টার্গেট করতাম।’
জোবায়েরের ব্যাটিং দর্শন শুনে মনে হল, পাক্কা ব্যাটসম্যান। পরে কোচ বাবুলও বললেন, পাঁচ জনের ভেতর তুলনামূলক জোবায়েরের টেকনিক ভালো। ব্যাকফুটে বেশ ভালো ব্যাট চালান।’
‘আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে ওরা নিজেরাই ব্যাটিং ভাল করে শিখতে চাইছে। প্রথম দিন শর্ট বলে সবাইকে বেশ দুর্বল মনে হয়েছিল। কিন্তু আজ মনে হল সেই দুর্বলতা কিছুটা হলেও কেটেছে।’ বলেন বাবুল।
বাবুলের সঙ্গে কথা বলে মুস্তাফিজের ব্যাটিং অনুশীলনে চোখ রাখা হল। বোলিং মেশিনে ছোঁড়া বল ডিফেন্স করে যাচ্ছেন। কখনো ফ্রন্টফুটে, কখনো ব্যাকফুটে। মনে হল, ফ্রন্টফুটে ডিফেন্স করার সময় চোখ এদিক-ওদিক হয়ে যাচ্ছে। বাবুলের অভিজ্ঞ চোখও ব্যাপারটা এড়ালো না। মুস্তাফিজকে থামিয়ে নিজেই দেখিয়ে দিলেন, ডিফেন্স করে বল মাটিতে ফেলানোর সময় গ্রিপের মাঝ দিয়ে চোখ রাখতে হয়। পরের দুটি বলে ঠিকঠাক মতো ব্যাট আর চোখ দিলেন মুস্তাফিজ। এবার কোচ নির্দেশ দিলেন ব্যাকফুটে খেলতে। মুস্তাফিজ প্রথম বলটা কোনোভাবে ঠেকালেন। পরেরটা সরাসরি হাতে!
গ্লাভস খুলে হাত টিপে দেখলেন। আবার শুরু করলেন। বুকের কিছুটা নিচে থাকা বল ব্যাকফুটে খেলানোর চেষ্টা করছিলেন কোচ। দশটার মতো বল খেলার পর বাবুল হাঁক দিলেন, ‘গুড, গুড। এভাবে খেল।’
মুস্তাফিজ যখন ব্যাট বগলদাবা করলেন, তখন শরীর দিয়ে পানি ঝরছে। সেটা বোঝা যাচ্ছে ভেজা জার্সি দেখে। কপালের ঘাম হাত দিয়ে মুছলেন। তারপর ড্রেসিংরুমের দিকে পা বাড়ালেন।
‘ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজকে কেমন দেখলেন?’ ‘ফ্রন্টফুটের চেয়ে ব্যাকফুটে একটু দুর্বল মনে হয়েছে। আর কয়েকদিন কাজ করতে পারলে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’ জবাব দেন বাবুল।
‘মুস্তাফিজ হাতে আঘাত পেয়েছেন বলে মনে হল। আঘাতটা কী রকম?’ শঙ্কাটা দূর করলেন বাবুল, ‘তেমন কিছু নয়। আগে এভাবে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেনি বলেই টুকটাক আঘাত লাগছে। দুই-একদিন গেলে ঠিক হয়ে যাবে।’
মুস্তাফিজের আঘাতের পরিমাণ সম্পর্কে ওই সময় আর কিছু জানার উপায় ছিল না। নেট থেকে বেরিয়ে দ্রুতপায়ে ইনডোর ত্যাগ করেন এই বিস্ময় বালক। দূর থেকে দেখা গেল, সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটছেন আর আঘাত পাওয়া হাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *