আইপিও শেয়ার যেভাবে বরাদ্দ পাবে আবেদনকারীরা

শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীরা সবাই এবং আনুপাতিক হারে শেয়ার পাবেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সর্বনিম্ন চাদাঁর পরিমাণ নির্ধারন করা হলেও সর্বোচ্চ বেধেঁ না দেওয়ায়।

এই সর্বোচ্চ সীমা বেধেঁ না দেওয়ায় অনেকে মনে করছেন বড় বিনিয়োগকারীরা এক বিও থেকেই অনেক টাকার আবেদন করবেন এবং আনুপাতিক হারে তারা বেশি শেয়ার পেয়ে যাবেন। এই নিয়মের কারনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রকৃতপক্ষে কিছুই পাবে না। কারন তারা বড়দের সঙ্গে চাদাঁ প্রদান করে পারবে না। তাই নতুন নিয়ম করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরকে শেয়ারবাজার থেকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর কমিশনের সভা শেষে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইপিওতে সাধারন বিনিয়োগকারীদেরকে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার বা উহার গুণিতক আবেদন করতে হবে। আর এখানেই যত সমস্যা তৈরী হয়।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদেরকে বলেন, যেকোন কোম্পানির আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রথমে ১০ হাজার টাকার চাদাঁকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা করে বিবেচনায় নিয়ে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরেও যদি শেয়ার থাকে, তাহলে ওই থেকে যাওয়া অংশটুকু বেশি টাকার আবেদনকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে দেওয়া হবে।

যেমন কখগ নামের একটি কোম্পানি ১ কোটি টাকার ইস্যু করবে। এখন কোম্পানিটির আইপিওতে ১ হাজার বিও হিসাব থেকে বিনিয়োগকারীরা ২ কোটি টাকার আবেদন করেছেন। এখানে শুরুতে বিবেচনায় নেওয়া হবে প্রত্যেকের সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা করে চাঁদার পরিমাণ। এক্ষেত্রে ওই ১ হাজার জনের ১০ হাজার করে মোট চাঁদার পরিমাণ হয় ১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এতে ১০ হাজার টাকার উপরে যারা আবেদন করেছেন, তারা ওই অতিরিক্ত টাকার আবেদনের জন্য কোন শেয়ার পাবেন না।

এদিকে যদি কোম্পানিটির ১ কোটি টাকার শেয়ারের জন্য ১ হাজারের কম বিনিয়োগকারী আবেদন করেন, তখন ১০ হাজার টাকার উপরে আবেদন করা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অবিক্রিত থাকা শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ধরি, কখগ নামের ওই কোম্পানিটির ১ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে ৫০০ জন বিনিয়োগকারী দেড় কোটি টাকার আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ৫০০ জন সর্বনিম্ন সীমা ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকার আবেদন করেছেন। সবার প্রথম তাদের মধ্যে ৫০ লাখ টাকার শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরে থেকে যাওয়া বাকি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ওই ৫০০ জনের মধ্যে যারা ১০ হাজার টাকার বেশি আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে আনুপাতিক হারে দেওয়া হবে।

তবে দেশের শেয়ারবাজারে কোম্পানির চাহিদার তুলনায় স্বাভাবিকভাবে কয়েকগুণ আবেদন জমা পড়ে। নিকট ভবিষ্যতে আন্ডারসাবসক্রাইব হওয়ার রেকর্ড নাই। সে হিসেবে নতুন নিয়মে ১০ হাজার টাকার বেশি আবেদন করে কোন লাভ হবে না।

এই বেশি বা কয়েকগুণ আবেদন করার জন্য সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকার আবেদনকারীদের মধ্যেও আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। যেমন কখগ নামের ওই কোম্পানিটির ১ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে ২ হাজার বিও থেকে ৩ কোটি টাকার আবেদন করা হল। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০ হাজার করে ওই ২ হাজার জনের চাঁদার পরিমাণ হয় ২ কোটি টাকা। কিন্তু কোম্পানিটি শেয়ার ইস্যু করবে ১ কোটি টাকার। এক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা বিবেচনায় ২ হাজার জনকে আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামি ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নিয়মে আইপিওতে আবেদনের জন্য সাধারন বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।