কানাডায় ডিজিটাল বুথ খুলছে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ

শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ কানাডার টরেনটোয় ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমোদন পেয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭৫৪তম কমিশন সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিদেশে বুথ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি এই সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।


বিষয়টি উভয় স্টক এক্সচেঞ্জসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে।


এর আগে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো বিদেশে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা খোলার অংশ হিসেবে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজকে বিদেশে ডিজিটাল বুথ খোলার অনুমোদন পেলো।


জানা গেছে, ডিজিটাল বুথ খুলতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্য ব্রোকারেজ হাউজ দু’টি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স পেতে কাজ শুরু করেছে। তবে দুবাইয়ে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ডিজিটাল বুথ শিগগিরিই চালু করার প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী ৯ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে
রাইজিং অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়াল অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেটস’ নামে ৪ দিনব্যাপী রোড শো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই রোড শোতে অংশ নেবেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ওই সময়ই ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ডিজিটাল বুথ করা উদ্বোধন করার প্রস্ততি চলছে। একইসঙ্গে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজও কানাডায় কখন ও কিভাবে তাদের ডিজিটাল বুথ চালু করবে, তা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।


এদিকে, পুঁজিবাজারে ব্যপ্তি বাড়াতে বিদেশে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা হিসেবে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরই ধরাবাহিকতায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ব্রোকারেজ হাউজ দুটি ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমতি চেয়ে ডিএসই ও সিএসইর পাশাপাশি বিএসইসিতেও আবেদন করে। তবে বিদেশে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতি নিয়ে বিএসইসতে আবেদন করার বিধান থাকলেও, ব্রোকারজে হাউজ দুটি তা পরিপালন করেনি। ডিএসই ও সিএসইর অনুমতি না নিয়ে বিএসইসিতে আবেদন করেছে তারা। যেহেতু বিদেশে বুথ খোলার অনুমোদন এবারই প্রথম দেওয়া হচ্ছে, তাই বিষয়টিকে নমনীয়ভাবে দেখছে বিএসইসি।


বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে অবস্থান করা অনেক সম্পদশালী বাংলাদেশি রয়েছেন। যাদের প্রচুর অলস অর্থ রয়েছে। কিন্তু তারা বিনিয়োগ করার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের সঞ্চিত অর্থ পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে কাজে লাগাতে চায় সরকার। বিদেশে অবস্থানরত বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে ডিজিটাল বুথ চালু করার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। এতে প্রবাসী বিনিয়োগকারী সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন এবং নিজের বিনিয়োগ নিজেই পরিচালনা করতে পারবেন।


এর আগে, গত ১৩ ডিসেম্বর বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত ডিজিটাল বুথ খোলার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতিক্রমে যেকোনো স্টক ব্রোকার ডিজিটাল বুথের জন্য কমিশনে আবেদন করতে পারবে। সিটি করপোরেশনের মধ্যে, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও দেশের বাইরেও ডিজিটাল বুথ স্থাপন করা যাবে। ডিজিটাল বুথ পরিচালনার জন্য স্টক ব্রোকারের প্রয়োজনীয় কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সক্ষমতা ও জনবল থাকতে হবে।


এছাড়া, বিদেশে বুথ খুলতে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্রোকারকে নন-জুডিশিয়াল ৩০০ টাকার স্টাম্পে অমীমাংসিত দাবি, বৈধ দাবি বা অপরিশোধিত দাবির ক্ষেত্রে তারা এককভাবে দায়বদ্ধ থাকবে বলে লিখিত দিতে হবে।ি ব্রোকার হাউজের পর্ষদ মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা যেকোনো শীর্ষ কর্মকর্তা বা পরিচালকের স্বাক্ষর থাকতে হবে সেই স্ট‌্যাম্পে।