দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা

dse
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। করোনা মহামারির মধ্যেও ঈদুল আজহার পরের দুই সপ্তাহের (৩ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট) আট কার্য দিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

একইসঙ্গে এই সময়ে সূচকের বড় উত্থানও দেখা গেছে ডিএসই ও সিএসইতে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। টানা সূচকের উত্থান এবং বাজার মূলধন বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নতুন কমিশনের সাহসী পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারের দাম কমে গেলে বাজার মূলধন কমে যায়। আর শেয়ারের দাম বাড়লে বাজার মূলধন বাড়ে, এটিই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে করোনাকালে সূচকের টানা উত্থান নতুন কমিশনের সাহসী পদক্ষেপের কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা আস্থা সঙ্কটে ভুগছিলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন একাধিক সাহসী পদক্ষেপ বিশেষ করে ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বড় কোম্পানিকে জরিমানা এবং পরিচালকদের শেয়ার ধারণের সময় বেঁধে দেওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এতে বাজার ইতিবাচক হতে শুরু করেছে।

গত আট কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। গত ৩ আগস্ট লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। ৮ কার্যদিবসে এটি বেড়ে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকায় অবস্থান করছে। একইসঙ্গে গত আট কার্যদিবসে ডিএসইর সব সূচক বেড়েছে। ৩ আগস্ট ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল চার হাজার ২১৪ পয়েন্ট। বর্তমানে সেটি চার হাজার ৭০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ এই আট কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ সূচক ৪৮৯ পয়েন্ট বেড়েছে। এছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৭৮ পয়েন্ট যথাক্রমে ১০৮৮ ও ১৫৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অপরদিকে ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ হাজার ৯৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। আট কার্যদিবসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ পয়েন্টে অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সিএসইর সার্বিক সূচক বেড়েছে ১৪০৪ পয়েন্ট।

বাজারে সূচকের টানা উত্থানকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, টানা এক দশক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল না। এক দশক অস্থিরতার পর এরকম উত্থান স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় নতুন কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরায় কেটে গেছে বাজারে তারল্য সংকট।