দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ১৯, আক্রান্ত ১১৬২

gg880
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে। নতুন রোগীসহ বর্তমানে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৮২২ জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সব সংখ্যাই বেড়েছে। নমুনা পরীক্ষার ল্যাবের সংখ্যার পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা, শনাক্তকৃত রোগী ও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা গেছেন ১৯ জন।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা মূলত প্রকাশ্যে আসে জানুয়ারিতে। ফেব্রুয়ারিতে চীনে যখন এটি ভয়াবহ রূপ নেয় তখন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে। সবাই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও বিদেশ ফেরতদের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিংসহ নানা পদক্ষেপ নেয়।

তবে এতকিছুর পরও ৮ মার্চ দেশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম ভাইরাসটির সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর ক্রমেই বাড়তে থাকে এর প্রাদুর্ভাব। এপ্রিলে এসে ভাইরাসটি যেন মারাত্মক রূপ ধারণ করে। যার ফলশ্রুতিতে মৃতের সংখ্যা পেরিয়ে যায় ২০০।

বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন এর করাল গ্রাসে দিশেহারা তখন অনেকটাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল চীন। অনেকদিন ধরে সেখানে মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহানে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি অনেকদিন। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে আবার নতুন করে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরপর লকডাউন করা হয়েছে একটি শহর।

এছাড়া উহান শহরের বাসিন্দাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যেই করোনা টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ভাইরাস দমনে অনেকটাই সফল জার্মানি লকডাউন শিথিল করে বিপাকে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত লকডাউন শিথিল করার পর থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। এরপর থেকে বারবার ঘুরে ঘুরে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী সামনে আসছে।

তারা বলেছিলেন, ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক যতদিন বাজারে না আসবে, ততদিন লকডাউনই একমাত্র ভরসা।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসটিতে সংক্রণের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৪৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৭ জনের শরীরে। এছাড়া এতে মারা গেছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৯ জন।

ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখ ২ হাজার ৭১২ জন।