বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলারসহ ২০ জেলে অপহরণ

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত ফিশিং ট্রলারে দু’দফা হানা দিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলার একটি ট্রলার ও তিন জেলেসহ অন্তত ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু ভাই ভাই বাহিনী। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে জেলেদের আহরিত মাছ, জ্বোলানী তেল ও অন্যান্য মালামালও লুটে নেয় দস্যুরা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী ও পক্কীর চর সংলগ্ন সাগরে এঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেক জেলের মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার রাত থেকেই কোস্টগার্ড পশ্চিম ও দক্ষিণ জোনের তিনটি দল অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনে অভিযান শুরু করেছে বলে কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে।
শরণখোলার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, দস্যুরা উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. জলিল পহলানের এফবি আল্লাহ’র দান ট্রলারসহ ওই ট্রলারের মাঝি বাবুল মুন্সী, ট্রলারের মিস্ত্রি সাখাওয়াত হোসেন ও একই গ্রামের আফজাল পহলানের ট্রলারের মাঝি সেলিম পহলানকে অপরণ করে নিয়ে গেছে। এক লাখ টাকা করে প্রত্যেকের মুক্তিপণ দাবী করেছে দস্যুরা। অপহৃত অন্য জেলেদের বাড়ি পাথরঘাটা, বাগেরহাট ও স্বরূপকাঠি এলাকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আ. মান্নান জানিয়েছেন, পাথরঘাটা এলাকার ৭-৮জন জেলে অপহরণের খবর তিনি শুনেছেন। তবে তাদের নাম পরিচয় জানাতে পারেননি। তবে তিনি বিভিন্ন এলাকার ২০ জেলে অপহরণের কথা জানিয়েছেন।
কোস্টগার্ড মংলা পশ্চিম জোনের কমান্ডার হাসান জানিয়েছেন, অপহৃতদের উদ্ধারে কচিখালী, সুপতি ও দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা কন্টিনজেন্টের তিনটি টিম রোববার রাত থেকে সুন্দরবনসহ সন্নিহিত এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে ৪টা) অভিযানের আপডেট জানাতে পারেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *