বিনিয়োগকারীদের নির্ভয়ে বাজারে আসার অনুরোধ, লেনদেন হবে ৫ হাজার কোটি- বিএসইসি চেয়ারম্যান

dss
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ ইকুইটির উপর নির্ভর না করে বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে লেনদেন ৪-৫ হাজার কোটি টাকা করতে কাজ করছে কমিশন বলে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত- উল ইসলাম।

আজ রোববার ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত “ব্রোকার সার্ভিস অ্যান্ড ইনভেস্টরস রাইট” শীর্ষক সমাপনী ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, নির্ভয়ে আপনারা বাজারে আসতে পারেন। আমরা আর কিছু করতে না পারি আপনাদের পুঁজির নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবো। এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সকে আমরা বাস্তবায়ন করবো। বাজার সংশ্লিষ্ট সবাই যদি আইটি প্লাটফর্মে আসে তাহলে লেনদেন আরও সহজ হয়ে যাবে। আমাদের দায়িত্ব বাজারের অনিয়ম দূর করা। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা দেয়া। আর এই বিষয়গুলো নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

‘নির্ভয়ে আপনারা বাজারে আসতে পারেন। আমরা আর কিছু করতে না পারি আপনাদের পুঁজির নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবো। এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সকে আমরা বাস্তবায়ন করবো’ বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর সাথে বসেছি। কেনো তারা জেডে অবস্থান করছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ জন্য প্রত্যেক কোম্পানির সাথে আলাদা করে বসা হয়েছে। এখন থেকে আমরা এই কোম্পানিগুলোকে মনিটর করছি। এসব কোম্পানির মধ্যে কিছু বন্ধ হয়ে গেছে বা ফ্যাক্টরি-অফিস বন্ধ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে এফডিআরের বিকল্প হিসেবে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। কারণ এখানে বিনিয়োগ করে একই সাথে লাভবান হওয়া ও নিরাপদ মনে হলে বিনিয়োগকারীরা এখানে আসবে। এরবাইরে আমরা বন্ড নিয়েও কাজ করছি। বিভিন্ন ধরনের বন্ড কীভাবে বাজারে আনা যায় তার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে এফডিআরের বিকল্প করা গেলে বিনিয়োগ নিরাপদ ও লাভবান হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড এফডিআরের বিকল্প হবে।

তিনি আরো বলেন, নিয়মকানুনের বিষয়ে আমরা বেশিবেশি জোড়াজুড়ি করছি বলে বলা হচ্ছে। অনেকেই এ কারনে হয়তো আমাদের উপর অসন্তুষ্ট হচ্ছেন। তবে আমরা আমাদের সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে পিছু হব না। আপনারা যদি মনে করেন আমাদের এখানে (বিএসইসি) থাকা উচিত না, তারপরেও আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে পিছু হব না। সুশাসনের ব্যাপারে শক্ত থাকব। আমাদের পুরো কমিশন এই আদর্শ নিয়ে আছে। আমরা চাই একটি ভাইব্রেন্ট শেয়ারবাজার।

তিনি আরো বলেন, সুন্দর একটি পরিবেশ দিতে পারলে এই বাজারে টাকার কোন অভাব হবে না বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউজে গ্রাহকদের নগদ ৫ লাখ টাকা লেনদেনের পরিমাণকে ৮ লাখ টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। এখন ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদে লেনদেন করা যাবে। এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমরা পেয়ে গেছি। আমরা আপনাদেরকে (ব্রোকার) ইএফটিএনে ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য উৎসাহিত করব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছুর রহমান। ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্রোকার হাউসের সেবাসমূহ ও বিনিয়োগকারীর অধিকার বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও।

প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামছুদ্দিন আহমেদ ও নির্বাহী পরিচালক মো.সাইফুর রহমান।