ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায় বিচ হ্যাচারি

bh1
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকম: মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের জন্য টেকনাফে বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের কিছু জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। এপ্রিলের শেষ দিকে হ্যাচারির মূল স্থাপনা ভাঙা পড়ে। কোম্পানির উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নিজস্ব জমিতে স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করে বা নতুন জমিতে হ্যাচারি গড়ে কিংবা অন্য হ্যাচারি কিনে নিয়ে উত্পাদন শুরু করলেও কোম্পানির বর্তমান আর্থিক অবস্থায় এর ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা। ব্যাংকের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কবে উত্পাদন কার্যক্রম শুরু হবে, তা বলতে পারছেন না কেউই। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জে সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

কোম্পানি সূত্র জানায়, মেরিন ড্রাইভের কারণে তাদের স্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই ভাঙা পড়েছে। এক্ষেত্রে সংস্কার তেমন ফলপ্রসূ হবে না। একই জায়গায় উত্পাদন চালু করতে হলে নতুন করে অনেক স্থাপনা বসাতে হবে তাদের। সরকারের কাছে কোম্পানি জমি ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। এজন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পৃথক আবেদন করেছে তারা।

এদিকে সরকার স্থাপনার পুরো জমি অধিগ্রহণ না করায় যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না বলেও আশঙ্কা করছেন কোম্পানির উদ্যোক্তারা। যতটা পাওয়া যাবে, তাও কবে পাওয়া যাবে— সেটিও অনিশ্চিত।

কোম্পানির কর্মকর্তারা আরো জানান, বর্তমান হ্যাচারিতে স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করতে চাইলে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা দরকার হবে। অন্যদিকে নতুন জমি কিনে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে হ্যাচারি গড়ে তুলতে সব মিলিয়ে ৩০ কোটি টাকা লাগবে। কোম্পানির সে পরিমাণ সম্পদ নেই। অবশ্য হ্যাচারির অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে কিছু টাকা পাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রেও নতুন হ্যাচারিতে উত্পাদন করতে গেলে আরো মূলধন প্রয়োজন হবে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব দিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা প্রত্যাখ্যান করে। এদিকে সম্প্রতি একাধিক ব্যাংকের সাহায্য চাওয়া হলেও কোম্পানির সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এগিয়ে আসেনি কোনো ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বিচ হ্যাচারির কোম্পানি সচিব নূরুল ইসলাম বলেন, যে অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া যাবে, তা দিয়ে উত্পাদন শুরু করা কঠিন হবে। কোনো ব্যাংকও এগিয়ে আসছে না। এদিকে উত্পাদন শুরুর জন্য কোন প্রক্রিয়া অবলম্বন করা যাবে, সে বিষয়েও দ্বিধায় আছেন উদ্যোক্তারা। সব মিলিয়ে কবে উত্পাদন শুরু করা যাবে তা বলতে পারছি না।

এদিকে সম্প্রতি স্টক এক্সচেঞ্জে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এ কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। ১০ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিচ হ্যাচারি শেয়ারের দর ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা, রোববার যা ১১ টাকা ৬০ পয়সায় উন্নীত হয়। উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একপর্যায়ে শেয়ারটির দর ৮ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছিল। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ২৩ টাকা ৬০ পয়সা।

২০০২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বিচ হ্যাচারি লিমিটেড। কোম্পানিটি চিংড়ির পোনা উত্পাদন ও বিপণন করে থাকে। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে তাদের পরিশোধিত মূলধন ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, রিজার্ভে আছে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৩৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৮ দশমিক ২৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৪৬ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় বিচ হ্যাচারি। সে বছর কোম্পানির বিক্রি কমে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নিট মুনাফা কমে ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বছর শেষে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়ায় ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে যা ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এদিকে ২০১৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, শেয়ারপ্রতি লোকসান ৪৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১১ টাকা ৯১ পয়সা।

জুন ক্লোজিংয়ের বাধ্যবাধকতায় এ বছর ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করছে কোম্পানিটি। গেল তিন প্রান্তিকে লোকসান অব্যাহত থাকলে এনএভিপিএস আরো কমে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।