স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা ও সমস্যা প্রশমিত করবেন স্বতন্ত্র পরিচালক

icsb
শেয়ারটাইম্‌স২৪ডটকমঃ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আরো গতিশীল করতে এবং কোম্পানির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিস এন্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) স্বতন্ত্র পরিচালক ইস্যুতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলি রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরদের ভূমিকা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক শিবলি রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, একটি কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচারকদের ভূমিকা বিস্তৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক সংস্থায় কেবল আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তারা তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করছেন না।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ পরিচালনা করতে হবে এবং তাদের সমস্যা প্রশমিত করতে হবে। একটি সমস্যা রয়েছে যে বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারদের কথা ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ভালভাবে সংজ্ঞায়িত না।

তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাজ্য, জাপান এবং মার্কিন কোডগুলি পর্যালোচনা করে এটি উন্নত করতে কাজ করছি। আমাদের স্বতন্ত্র পরিচারকদের স্বাধীনতা এবং তাদের যোগ্যতা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। প্রতিটি পরিচালক স্বতন্ত্রভাবে এবং যৌথভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে যে কিভাবে পরিচালনা হচ্ছে। বিএসইসি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রত্যাশায় রয়েছে।

ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট মোজাফফর আহমেদ তার স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে তার উপস্থিতির জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রত্যাশা করেন যে আইসিএসবি এবং বিএসইসির সহযোগিতা দীর্ঘকাল চলবে।

তিনি বলেন, এখন আইসিএএসবির অনেক দক্ষ পেশাদার আছেন। সুতরাং বিএসইসি গর্ভনেন্স অডিট শুধুমাত্র চার্টার্ড সেক্রেটারিদের জন্য রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধের উপস্থাপক সিএস নিসার আহমদ তার উপস্থাপনায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর এর বিভিন্ন বিষয়ে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার গ্লোবাল ট্রেন্ডস সম্পর্কিত ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ও ভারতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন এবং অ্যাংলো মার্কিন মডেল ও জাপানিদের কর্পোরেট প্রশাসনের মডেল নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব, ভূমিকা ও কার্যাবলি তুলে ধরেন। এছাড়া পরিচারকদের ডাটাবেস তৈরির পরামর্শও দেন।

সিপিডি প্রোগ্রামের সভাপতি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ সার সংক্ষেপ উপস্থাপন এবং কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেন

১. স্বতন্ত্র পরিচারকদের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্র্যাকটিসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ বজায় রাখতে হবে।

২. মনোনীত পরিচালকগণকে স্বতন্ত্র পরিচারক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

৩. যোগ্যতা, পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় জ্ঞান এবং নৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র পরিচারক প্যানেল প্রস্তুত করা দরকার।

৪. স্বতন্ত্র পরিচারকদের ফি এবং সম্মানী পর্যাপ্ত হতে হবে।

৫. স্বতন্ত্র পরিচারকদের পারফরম্যান্স সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা দরকার।

৬. স্বতন্ত্র পরিচারকদের ডিক্লারেশন বজায় রাখা হবে।

৭. স্বতন্ত্র পরিচারকদের ধারণাটি তালিকাভুক্ত নয় এমন সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলিতেও অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

৮. স্বতন্ত্র পরিচারকদের বিকাশের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিচালকদের বিকাশের জন্য আইসিএসবি সর্বদা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করতে আগ্রহী। আইসিএসবি সবসময় বিএসইসির সহযোগিতায় কাজ করতে চায়।